মেট্রো রেলে বদলে যাচ্ছে হো চি মিনের চিরচেনা বাণিজ্যিক চিত্র

ভিয়েতনামের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত ব্যস্ততম হো চি মিন সিটির যাতায়াত ব্যবস্থা ও বাণিজ্যের চিরাচরিত দৃশ্যপট বদলে দিচ্ছে দেশটির প্রথম মেট্রো রেল।

ভিয়েতনামের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত ব্যস্ততম হো চি মিন সিটির যাতায়াত ব্যবস্থা ও বাণিজ্যের চিরাচরিত দৃশ্যপট বদলে দিচ্ছে দেশটির প্রথম মেট্রো রেল। চালুর এক বছর পেরিয়ে যাতায়াত ব্যবস্থাটি কেবল মানুষের সময় সাশ্রয় করছে না, বরং এর প্রভাবে শহরটির আবাসন ও খুচরা ব্যবসায় নতুন গতির সঞ্চার হয়েছে। জাপানি অর্থায়নে নির্মিত এ প্রকল্প এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির আধুনিকায়নের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বেন থান থেকে সুওই তিয়েন পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রো লাইনটি চালুর পর প্রথম বছরেই দুই কোটি যাত্রী এটি ব্যবহার করে যাতায়াত করেছে। স্থানীয়রা জানান, যাতায়াতের সময় ১০ থেকে ২০ মিনিট কমে যাওয়ায় তাদের কর্মক্ষমতা বাড়ছে। আগে যেখানে মোটরসাইকেলের যানজটে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হতো, এখন সেখানে আরামদায়ক যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে যাত্রীরা পড়া বা বিনোদনমূলক কিছু দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।

তবে মেট্রো রেলের সবচেয়ে বড় প্রভাব দেখা যাচ্ছে শহরটির বাণিজ্যিক কাঠামোয়। মেট্রো স্টেশনগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে নতুন নতুন শপিংমল ও বিনোদন কেন্দ্র। হো চি মিনের ডং খোই স্ট্রিটের মতো অভিজাত এলাকাগুলোয় এখন বিদেশী হোটেল ও লাক্সারি বুটিকের ছড়াছড়ি। বিশেষ করে ইউনিয়ন স্কয়ারের মতো শপিং হাবগুলোর সঙ্গে মেট্রো স্টেশনের সরাসরি সংযোগ দেশটির খুচরা ব্যবসায় এক নতুন যুগের সূচনা করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে কফিশপ থেকে শুরু করে বড় শপিং মলগুলোয় ক্রেতা সমাগম বেড়েছে বহুগুণ।

বাণিজ্যিক পরিবর্তনের ছাপ পড়েছে আবাসন খাতেও। মার্কিন রিয়েল এস্টেট সেবামূলক প্রতিষ্ঠান জোনস ল্যাং লাসালের (জেএলএল) তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে হো চি মিন সিটির সামগ্রিক অ্যাপার্টমেন্টের দাম ৪ শতাংশ বাড়লেও মেট্রো স্টেশনের আশপাশ এলাকায় এ বৃদ্ধির হার দ্বিগুণ বা ৮ শতাংশ। বিনিয়োগকারীরা এখন স্টেশনের কাছাকাছি বাণিজ্যিক স্পেস বা আবাসন তৈরিতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন।

জাপানি অর্থায়ন ও প্রযুক্তিতে নির্মিত মেট্রো রেল প্রকল্পে বকেয়া পাওনা নিয়ে কিছু জটিলতা থাকলেও মেট্রো নেটওয়ার্ক প্রসারে ভিয়েতনাম সরকারের পরিকল্পনা অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে আরো নয়টি মেট্রোলাইন নির্মাণ করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, রেল নেটওয়ার্কের বিস্তার কেবল যাতায়াতই সহজ করবে না, বরং বিশ্ববাজারে ভিয়েতনামের ব্যবসায়িক আকর্ষণ ও বিনিয়োগ সম্ভাবনাকেও আরো বিস্তৃত করবে।

খবর ও ছবি নিক্কেই এশিয়া

আরও